পোস্টগুলি

রাজ্যের চাকরি নিয়োগে Big Change! নতুন নিয়ম ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর

Karma Khabar

 রাজ্যের চাকরি নিয়োগে বড়সড় পরিবর্তন! নতুন নিয়ম ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্যের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগে এবার বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শিক্ষা দপ্তরের নিয়োগ ব্যবস্থায় একাধিক নতুন নিয়ম আনার কথা জানিয়েছেন বলে খবর। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতি, ওএমআর কারচুপি, নম্বর বদল এবং আইনি জটিলতা চলার পর এবার পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।






সূত্রের খবর, নতুন সরকার চাইছে এমন একটি নিয়োগ ব্যবস্থা তৈরি করতে যেখানে যোগ্য এবং মেধাবী চাকরিপ্রার্থীরাই সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি, তবুও সম্ভাব্য নতুন নিয়মগুলি সামনে আসতেই চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজ্যের চাকরি নিয়োগে বড়সড় পরিবর্তন

রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের টিচিং এবং নন-টিচিং পদে পরীক্ষায় কি কি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, দেখে নেব।

এবার থেকে শিক্ষা দপ্তরের নিয়োগে সম্পূর্ণ বাংলায় পরীক্ষা হবে

স্কুল সার্ভিস কমিশন বা অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় অনেক সময় প্রশ্নপত্রের ভাষা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতো। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ধাঁচে বা সিটেট (CTET) নিয়মে পরীক্ষা নিতে গিয়ে ইংরেজি ও হিন্দি ভাষার প্রাধান্য দেখা যেত, যা রাজ্যের অনেক প্রার্থীর জন্য অসুবিধাজনক হতো। অন্যদিকে এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্য রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের আধিপত্য দেখা যেত।

শিক্ষা দফতরের নতুন ভাবনা অনুযায়ী, এবার থেকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণভাবে বাংলা ভাষাতে করা হবে। যাতে সমস্ত পরীক্ষার্থীদের সুবিধা হয়। অন্যদিকে বাংলার ভূমিপুত্ররা অগ্রাধিকার পায়।

 নম্বর শিক্ষাগত যোগ্যতা, ৬০ নম্বর লিখিত পরীক্ষা

নতুন নিয়মে এও জানানো হয়েছে, যে এবার থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নম্বর বিভাজনে চাকরিপ্রার্থীদের অ্যাকাডেমিক কোয়ালিফিকেশন বা শিক্ষাগত যোগ্যতাও গণ্য করা হবে। আগে কেবল লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই হত। কিন্তু এখন ৩০ নম্বর থাকবে পরীক্ষার্থীর মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (Graduation) এবং শিক্ষক শিক্ষণ ট্রেনিং (B.Ed/D.El.Ed) থেকে, ৬০ নম্বর থাকবে লিখিত পরীক্ষার, এবং বাকি ১০ নম্বর ইন্টারভিউ বা পার্সোনালিটি টেস্ট এবং ক্লাসরুম টিচিং ডেমোন্স্ট্রেশনের জন্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের কার্বন কপি দেওয়ার ভাবনা

শিক্ষক নিয়োগে ওএমআর বা উত্তরপত্র কারচুপি নিয়ে গত কয়েক বছরে বাংলায় অনেক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন যে, ডেটাবেস বা সার্ভারে এক নম্বর রয়েছে অথচ আসল ওএমআর শিটে অন্য নম্বর। এই ধরনের কারচুপি এবং ‘নম্বর গায়েব’ হওয়ার জল্পনা চিরতরে বন্ধ করতে শিক্ষা দফতর জানিয়েছে, এবার থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিটের একটি ‘কার্বন কপি’ (Carbon Copy or Duplicate Copy) নিজেদের সাথে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।

এর ফলে যখন অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ‘অ্যানসার কি’ (Answer Key) প্রকাশ পাবে, তখন পরীক্ষার্থীরা নিজেদের কার্বন কপির সাথে মিলিয়ে দেখে নিতে পারবেন তারা ঠিক কত নম্বর পাচ্ছেন। যা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১০০% স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

মূল্যায়ন পদ্ধতিও একই রকম করার ভাবনা

এতদিন রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক নিয়োগ, যেমন প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর নিয়োগের ক্ষেত্রে মূল্যায়নের আলাদা আলাদা নিয়ম ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, সমস্ত নিয়োগের জন্য ‘ইউনিফর্ম ইভালুয়েশন প্রসেস’ বা একই রকম মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হবে।

বিঃদ্রঃ এখনো এই নিয়ে অফিসিয়ালি কোনো বিজ্ঞপ্তি আসেনি। আগামী ৬ জুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে খবর। যেকোনো আপডেট আসা মাত্রই তা সবার আগে পেতে চাইলে, আমাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেল ফলো করুন।











এবার সম্পূর্ণ বাংলায় হবে নিয়োগ পরীক্ষা

নতুন নিয়মের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে পারে পরীক্ষার ভাষা নিয়ে। এতদিন বিভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইংরেজি ও হিন্দি ভাষার প্রাধান্য দেখা যেত। বিশেষ করে CTET ধাঁচের পরীক্ষাগুলিতে বাংলার অনেক চাকরিপ্রার্থী সমস্যার মুখে পড়তেন।

শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের নতুন ভাবনা অনুযায়ী, এবার থেকে শিক্ষা দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণ বাংলায় করা হতে পারে। এতে বাংলার পরীক্ষার্থীরা নিজেদের মাতৃভাষায় সহজে পরীক্ষা দিতে পারবেন। পাশাপাশি অন্য রাজ্যের প্রার্থীদের আধিপত্যও অনেকটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যের বহু চাকরিপ্রার্থী দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানাচ্ছিলেন যে, রাজ্যের চাকরির পরীক্ষায় বাংলা ভাষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হোক। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই দাবিও অনেকটাই পূরণ হতে পারে।

নম্বর বিভাজনে আসছে বড় বদল

শুধুমাত্র লিখিত পরীক্ষার নম্বরের উপর ভিত্তি করে আর নিয়োগ করা হবে না বলেও জানা যাচ্ছে। এবার থেকে চাকরিপ্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সম্ভাব্য নতুন নম্বর বিভাজন অনুযায়ী—

৩০ নম্বর থাকবে শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য

৬০ নম্বর থাকবে লিখিত পরীক্ষার জন্য

১০ নম্বর থাকবে ইন্টারভিউ ও পার্সোনালিটি টেস্টের জন্য

শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, গ্র্যাজুয়েশন এবং B.Ed বা D.El.Ed ট্রেনিংয়ের নম্বর বিবেচনা করা হতে পারে।

আগে মূলত লিখিত পরীক্ষা এবং ইন্টারভিউয়ের উপর ভিত্তি করে নিয়োগ হত। কিন্তু এবার একজন প্রার্থীর পুরো শিক্ষাজীবনের ফলাফলও মূল্যায়নের আওতায় আনা হতে পারে। ফলে যাদের একাডেমিক রেকর্ড ভালো, তারা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.