LPG Price Hike: এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বৃদ্ধি! রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ল, চিন্তায় সাধারণ মানুষ
সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে রান্নার গ্যাস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের রান্নাবান্না থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ—সব ক্ষেত্রেই এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের দামের লাগাতার বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। এবার আবারও বড় ধাক্কা খেল সাধারণ মানুষ। এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়ে গেল ঘরোয়া রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম l
নতুন দামের ঘোষণা অনুযায়ী, কলকাতায় ১৪ কেজি এলপিজি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এখন দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ টাকা। এতদিন যে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল ৮৭৯ টাকায়, এখন তার জন্য দিতে হবে আরও ৬০ টাকা বেশি। এই দাম কার্যকর হয়েছে ৭ মার্চ থেকে। ফলে নতুন মাসের শুরুতেই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের বাজেটে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
রান্নার গ্যাসের দামে বড় পরিবর্তন
গত কয়েক মাস ধরে ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দামে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। যদিও এই সময়ে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কয়েকবার বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই অনেকেই আশা করেছিলেন যে অন্তত কিছুদিন রান্নার গ্যাসের দাম স্থির থাকবে। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হল না।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী—
• ১৪ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা
• কলকাতায় নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ টাকা
• আগে এই দাম ছিল ৮৭৯ টাকা
এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে বেশ বড় ধাক্কা হিসেবেই ধরা পড়েছে। কারণ ইতিমধ্যেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। তার উপর গ্যাসের দাম বাড়ায় সংসারের মাসিক খরচ আরও বেড়ে গেল।
বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও বাড়ল
শুধু ঘরোয়া রান্নার গ্যাসই নয়, বাণিজ্যিক বা কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডারের দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১৯ কেজি ওজনের বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা।
নতুন দাম অনুযায়ী কলকাতায় বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এখন দাঁড়িয়েছে ১৯৯৯ টাকা। আগে এই দাম ছিল ১৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা।
এই ধরনের গ্যাস সিলিন্ডার সাধারণত ব্যবহার করা হয়—
• হোটেল
• রেস্তরাঁ
• ক্যাটারিং ব্যবসা
• ছোট বড় খাবারের দোকান
• বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান
ফলে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হলে তার প্রভাব পড়ে খাবারের দামেও। অনেক রেস্তরাঁ ও হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়লে তাদের খরচ বেড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সেই প্রভাব গ্রাহকদের উপর পড়তে পারে।
বছরের শুরু থেকেই বাড়ছে দাম
২০২৬ সালের শুরু থেকেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বারবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ১১১ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এরপর ১ ফেব্রুয়ারিতেও আবার দাম বাড়ানো হয়।
ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৪৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম। তারপর ১ মার্চ আবার নতুন সংশোধিত দামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই সময় কলকাতায় ১৯ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছিল ১৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা।
এবার মার্চ মাসেই আবার নতুন করে দাম বাড়িয়ে তা ১৯৯৯ টাকায় পৌঁছে গেছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্যাসের দাম অনেকটাই বেড়ে গেল।
এতদিন স্বস্তিতে ছিল ঘরোয়া গ্যাস
গত কয়েক মাস ধরে যদিও বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ছিল, কিন্তু ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম স্থির ছিল। তাই সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তিতে ছিলেন। অনেকেই ভেবেছিলেন যে হয়তো কিছুদিন আর দাম বাড়বে না।
কিন্তু সেই স্বস্তি এবার শেষ হয়ে গেল। ৭ মার্চ থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় সাধারণ পরিবারগুলিকে এখন গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হবে।
মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই বৃদ্ধি বিশেষভাবে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ একদিকে যেমন বাজারে সবজির দাম বাড়ছে, অন্যদিকে গ্যাসের দামও বাড়ায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে।
কেন বাড়ছে গ্যাসের দাম?
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পিছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে এলপিজি গ্যাসের দামের উপর।
ভারতে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেশের বিভিন্ন অয়েল মার্কেটিং কোম্পানি। তারা আন্তর্জাতিক বাজারের দামের উপর ভিত্তি করে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে থাকে।
যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ে, তখন দেশের বাজারেও তার প্রভাব দেখা যায়। আবার দাম কমলে অনেক সময় গ্যাসের দামও কমানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলা উত্তেজনা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলা সংঘাত বিশ্ববাজারে তেলের দামের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
যদি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে পেট্রোল, ডিজেল এবং গ্যাসের দামও আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বরাজনীতির পরিস্থিতি যত বেশি অস্থির হবে, তেলের দাম তত বেশি ওঠানামা করতে পারে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনে।
সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব
রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। কারণ প্রায় প্রতিটি পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।
গ্যাসের দাম বাড়লে—
• পরিবারের মাসিক বাজেট বেড়ে যায়
• রান্নার খরচ বাড়ে
• হোটেল ও রেস্তরাঁর খাবারের দাম বাড়তে পারে
• ছোট ব্যবসায়ীদের খরচ বৃদ্ধি পায়
বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ভবিষ্যতে আরও দাম বাড়ার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে যদি তেলের দাম আরও বাড়তে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে গ্যাসের দামও আরও বাড়তে পারে। যদিও সরকার ও তেল সংস্থাগুলি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
তবে অনেকেই মনে করছেন যে আগামী কয়েক মাস আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। যদি বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল থাকে, তাহলে হয়তো দাম আর বাড়বে না। কিন্তু যদি পরিস্থিতি খারাপ হয়, তাহলে আরও মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
