মার্চ থেকেই বকেয়া ডিএ পেতে শুরু করবেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
রাজ্যের সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। অবশেষে বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
করলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকেই ধাপে ধাপে বকেয়া ডিএ প্রদান শুরু করবে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা
১৫ মার্চ বিকেল প্রায় ৩টা ৫ মিনিটে নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মী এবং পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি সরকার রাখছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ROPA-২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকেই দেওয়া শুরু হবে।
কারা এই বকেয়া ডিএ পাবেন?
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন। বকেয়া ডিএ পাবেন—
• রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা
• অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরা
• শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা
• বিভিন্ন অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা
• পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মচারীরা
ফলে রাজ্যের লক্ষাধিক মানুষের হাতে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পৌঁছাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্চেই বকেয়া ডিএ পাবে রাজ্য সরকারি কর্মীরা
এদিন ১৫ মার্চ বিকেল ৩টে ৫ মিনিটে এক্স হ্যান্ডেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় লিখেছেন, “আমাদের মা- মাটি- মানুষের সরকার তার সকল কর্মচারী, পেনশনভোগী, লক্ষ লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মচারী, পঞ্চায়েত-পুরসভার কর্মী ও পেনশনভোগীকে দেওয়া কথা রেখেছে। তাঁরা রোপা-২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ২০২৬ সালের মার্চ থেকেই পেতে শুরু করবেন।’’সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতার বকেয়া টাকা প্রদান শুরু হবে ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মী উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত ২০০৯ সালের ‘রিভিশন অফ পে অ্যান্ড অ্যালাউন্স’ বা ROPA কাঠামোর আওতায় থাকা বকেয়া পাওনা মেটানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বকেয়া ডিএ সহ নতুন ঘোষণা
সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। হিন্দু মন্দিরের পুরোহিত এবং মসজিদের মোয়াজ্জিনদের মাসিক সাম্মানিক ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে তাঁদের মাসিক সাম্মানিক বেড়ে দাঁড়াল ২,০০০ টাকায়।
বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতেই এই ধরনের বড় ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কারণ যাই হোক না কেন, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক দাবি জানিয়ে আসা সরকারি কর্মীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর।
